‘‘তখন আমার বয়স ১০ কি ১১। গেন্ডারিয়ায় আমাদের বাড়ি। বাবা দুধওয়ালা ঠিক করলেন। এমন একটা সময় দুধওয়ালা আসত দুধ দিতে, যখন বাড়িতে কেউ থাকত না। আমিই পাত্র নিয়ে দুধ রাখতাম। আর দুধওয়ালা চাচাও কী মনে করে যেন আমার জন্য আলাদা পাত্রে একটু করে দুধ দিতেন।
আমি ওই দুধ দিয়ে খেলার ছলে চুলোয় চাপিয়ে দিতাম। ঘন দুধটা খেতেও মজা বেশ।
একদিন সবাই রাতের বেলা ঘুমিয়ে পড়েছে। কাজের বুয়ার সাহায্যে জমানো দুধ দিয়ে রেঁধে ফেললাম ফিরনি।
পরদিন সকালে নাশতার টেবিলেই ফিরনিটা সবাই একটু করে খেল। কেউ কেউ বুয়ার প্রশংসা করল। বুয়া তখন হেসে দিয়ে বলল, এটা তো ছোট আপা তৈরি করেছে।
বাড়ির লোকেরা সবাই বিস্মিত। ‘কিরে চম্পা, তুই রান্না শিখলি কী করে রে?’ বললেন সুচন্দা আপু।
আমি শুধুই হাসি।’’ ছোটবেলার রান্নার স্মৃতি জানালেন চম্পা।
বেশ ছোটবেলাতেই মা মারা যাওয়ার পর চম্পা পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরের কাজ করতেন। বড় দুই বোন সুচন্দা ও ববিতা শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। তখনই চম্পা রান্না শিখতে শুরু করেন। ‘এই যেমন—ভাত, ভর্তা, ভাজি এসব শিখে ফেললাম। আর কেউ যখনই রান্না করতেন, তখন মনোযোগ দিয়ে সেই রান্না দেখতাম। ববিতা আপার বাসায় তো রান্নাবান্নাও করতাম। আপা শুটিংয়ে থাকলে বাড়ি আমাকেই দেখতে হতো। একেক দিন একেক রকম রান্নার আইটেম করেছি। এভাবেই হাতটা পাকিয়েছি।’ বলছিলেন চম্পা।
তবে চম্পা সুস্বাদু সব রান্না শিখেছেন স্বামী শহীদুল ইসলাম খান জিন্নাহর কাছে। বিয়ের পর চম্পাকে তিনি হাতে ধরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রান্না শিখিয়েছেন। মাছ বা মাংস যে কয়েকভাবে রান্না করা যায়, সেটিও তিনি শিখিয়েছেন চম্পাকে। ‘জিন্নাহ বেশ ভোজনরসিক। ওর জন্য রান্না করতে তাই ভালো লাগে। এ আসলে অন্য রকম এক আনন্দ।’ বললেন চম্পা।
ঈদের দিন চম্পা কী রাঁধবেন—জানতে চাইলে তিনি বললেন, একাধিক আইটেম রান্না হবে। তবে এর মধ্যে কয়েকটি আইটমে থাকবেই। এগুলো হলো ফিরনি, পুঁইপাতা পানখিলি, গরুর মাংস, ডিম বল ও ইলিশ কাবাব। সেগুলোই নকশার জন্য রেঁধেছেন তিনি।
সাক্ষাত্কার: কামরুজ্জামান
দৈনিক প্রথম আলোর সৌজন্যে রেসিপিগুলো পাওয়া যাচ্ছে আমাদের বাংলা রেসিপি বিভাগে।






Leave a Reply